নিরাপদ মাতৃত্ব একটি অধিকার, একটি বিশেষাধিকার বা সুবিধা নয়। নারীর গর্ভাবস্থায় বা সন্তানের জন্মের জন্য অযথা মৃত্যুবরণ করার অধিকার নেই। নিরাপদ মাতৃত্ব মানে গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় সমস্ত নারীরা নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য যত্ন পাবে। নিরাপদ মাতৃত্বের নারী অধিকার কেবল স্বাস্থ্যের অধিকার নয়; এটা জীবনের অধিকার।

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ

নিরাপদ মাতৃত্ব মানে গর্ভধারণ ও সন্তানের জন্ম নিরাপদে হওয়ার জন্য সকল নারীকে তথ্য ও পরিষেবাগুলিতে অভিগমন নিশ্চিত করা। এর অন্তর্ভুক্ত:

  • নিরাপদ মাতৃত্বের উপর শিক্ষা
  • জন্মপূর্ব যত্ন (গর্ভাবস্থায় যত্ন)
  • মাতৃ পুষ্টি উন্নয়ন
  • প্রতিটি প্রসবের জন্য সর্বক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রসব সহায়তা
  • গর্ভাবস্থা, সন্তানের জন্ম এবং গর্ভপাতের জটিলতার জন্য উল্লেখিত পরিষেবাসহ প্রসবের জরুরি অবস্থায় রেফারাল ব্যবস্থা থাকা
  • জন্মের পরকালীন যত্ন (শিশু জন্মের পরে যত্ন)

মাতৃমৃত্যুর কিছু সাধারণ সামাজিক কারণ

  • যথাসময়ের পূর্বে বিবাহ এবং গর্ভাবস্থা
  • ক্রমাগত শিশুর জন্মদান
  • রক্তশূন্যতা
  • বিপদের লক্ষণ এবং সঙ্কেত সম্পর্কে তথ্যের অভাব
  • রেফার করায় বিলম্ব

গর্ভাবস্থায় লক্ষণসমূহ

নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি কিছু অস্বস্তি এবং জটিলতার নির্দেশ করে

অস্বস্তি সূচক লক্ষণ

জটিলতা বিকশিত হতে পারার লক্ষণ

  • বমি বমি ভাব এবং বমি
  • বুক জ্বালা
  • কোষ্ঠবদ্ধতা
  • মূত্রত্যাগের দ্রুততা বৃদ্ধি
  • জ্বর
  • স্ত্রীযোনি নির্গমন
  • অল্প পরিমাণে প্রস্রাবের নির্গমন
  • স্ত্রীযোনি থেকে রক্তপাত
  • ভ্রূণের নড়াচড়া হ্রাস বা অনুপস্থিত
  • স্ত্রীযোনি থেকে পাতলা তরল নির্গমন (পি / ভি)

জন্ম প্রস্তুতি

সকল গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে প্রসবের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। প্রসবের সময় যেকোন জটিলতা তৈরী হতে পারে, জটিলতা সবসময় পূর্বাভাসযোগ্য নয়, এবং এটা মা এবং / বা শিশুর জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে।

সর্বোত্তম যত্ন প্রদান করা বলতে বুঝায় স্বাস্থ্যসেবাতে সেবাপ্রদানকারী, সরঞ্জাম, সরবরাহ ও ওষুধের সুবিধা প্রয়োজন হলে প্রদান করা। এমনকি রেফার করার জন্য একটি রেফার পদ্ধতির তৈরী করা উচিত।